তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় সরকারি টাকায় ব্যক্তি স্বার্থে দুটি কালভার্ট নির্মাণ

নওগাঁয় সরকারি টাকায় ব্যক্তি স্বার্থে দুটি কালভার্ট নির্মাণ,মন্ত্রী বরাবর অভিযোগ প্রেরণ
[ভালুকা ডট কম : ০৮ ফেব্রুয়ারী]
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সরকারি টাকায় ব্যক্তি স্বার্থে দুটি কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায় দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তরের বরাদ্দে প্রায় ৩২ লাখ ব্যয়ে এই দুটি র্কালভাট নির্মাণ করা হয়েছে। একটি কোলা ইউনিয়নের কেশাইল হঠাৎপাড়া নয়নজলী খালের ওপর তালেবের বাড়ির নিকট ও মিঠাপুর ইউনিয়নের উজালপুর সিংপাড়া মিন্টু মুরগির খামার সংলগ্ন রাস্তায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে এই দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়।

নীতিমালা বর্হিভূতভাবে ব্যক্তি স্বার্থে দুটি কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ এনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সচিব, মহাপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, নওগাঁ জেলা প্রশাসক, নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা ও বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। উপজেলা ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী ডাকযোগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই লিখিত অভিযোগটি দিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ব্যক্তি স্বার্থে দুটি কালভার্ট নির্মাণ করে রাষ্ট্রের ৩১ লাখ সাড়ে ৮৩ হাজার  টাকা অপচয় করা হয়েছে। এটা একটি চরম দুর্নীতি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটা মেনে নিতে পারিনি। তাই প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছি।

অভিযোগ সূত্রে জানা, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং ত্রাণ পূর্ণবাসন অধিদপ্তরের নভেম্বর/২০০৯ সালের বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী  উপজেলা আওতাধীন গ্রামীণ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সর্র্ম্পূণ অংশ যানবাহন চলাচলের নিমিত্তে গ্যাপ সংযোগে  ১৬-৩০ এবং ৩১-৪০ ফুট দৈঘ্য সেতু/ কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। জাতীয় সড়ক নেটওর্য়াকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে সেতু ও কালভার্ট সমূহ ব্যক্তিগত স্বার্থে  নির্মাণ করা যাবে না। অথচ ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃক উপজেলার খাদাইল সিংপাড়া হতে মিন্টুর শেডের দীঘির খালের ওপর ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৫০  টাকার বিপরীতে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য একটি কালভার্ট নির্মাণ এক নম্বর প্রকল্প (যা উজালপুর সিংপাড়া হবে) এবং কোলা ইউনিয়নের হঠাৎপাড়া নয়নজলী খালের ওপর তালেবের বাড়ীর নিকট ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৫০ টাকার বিপরীতে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য কালভার্ট নির্মাণে তিন নম্বর প্রকল্প গ্রহন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। (এটি কেশাইল হঠাৎপাড়া হবে)।  গত ১১ জুন ২০১৮ সালে লটারির মাধ্যমে প্রকল্প দুটির ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। ২৬ জুলাই ২০১৮ সালে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। গত নভেম্বর মাসে দুটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরো জানা, উজালপুর সিংপাড়া বিকুলের বাড়ীর পশ্চিমে মিন্টু গং জমি ক্রয় করে শেডে যাতায়াতের জন্য কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেন। মিন্টুর শেড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমে ফসলি জমির মাঠ। এখানে কোনো জনস্বার্থ নেই ব্যক্তি স্বার্থে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। বদলগাছী-আক্কেলপুর পাকা সড়ক সংলগ্ন দক্ষিণে ৮/১০ টি বাড়ি নিয়ে কেশাইল হঠাৎপাড়া গঠিত। হঠাৎপাড়া নয়নজলী খালের ওপর তালেবের বাড়ীর নিকট নির্মানাধীন কালভার্টটির মাত্র দশ গজ পূর্বে এবং ২০ গজ পশ্চিমে আরও দুটি কালভার্ট রয়েছে। এই দুটি কালভার্ট দিয়ে হঠাৎপাড়ায় যাতায়াত করা হয়। বদলগাছী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কেশাইল হঠাৎপাড়ার সিরাজুল ইসলাম চৌকিদারের ছেলে সোহেল চাকরি করেন। তাঁর বাড়িতে যাতায়াতের জন্য কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উজালপুর সিংপাড়া ও কেশাইল হঠাৎপাড়া গ্রামে কয়েক জন বাসিন্দা বলেন,  মুরগির খামার ও পুকুরটি আপন দুই ভাইয়ের। মুরগির খামার কর্মরত লোকজন ছাড়া কেউ সেই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে না। অথচ সেখানে সরকারি টাকায় কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে জনস্বার্থ জড়িত নেই।  কেশাইল হঠাৎপাড়ায় আগে থেকেই দুটি কালভার্ট রয়েছে। তালেবের বাড়ীর সামনে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এটার কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এখানকার একজন ব্যক্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে চাকরি করেন। একারণেই নাকি কালভার্টটি করা হয়েছে বলে তাঁরা শুনেছেন।

বদলগাছী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল করিম ব্যক্তি স্বার্থে কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন গ্রামবাসীর স্বার্থে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। মুরগির খামারের মালিক রাস্তাটি নির্মাণের কারণে উজালপুর গ্রামে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হওয়ায় মাঠের ফসল নষ্ট হয়। এলাকার লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাংসদ মহোদয় সেখানে কালভার্ট নির্মাণের সুপারিশ করেন। এছাড়া সেখানকার কিছু লোকের স্বাক্ষরিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। মিঠাপুর ইউনিয়ন পরিষদও প্রত্যয়ন দিয়েছে। হঠাৎপাড়ায় পশ্চিম দিকে যে কালভার্টটি রয়েছে সেটি পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। একারণে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমি এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। প্রকল্প গ্রহনের একটি কমিটি  আছে। সেই কমিটির সবার মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প নেওয়া হয়। ব্যক্তিস্বার্থে নয় জনস্বার্থে দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম আলী বেগ বলেন, দুটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে একটি অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৫৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই