তারিখ : ১৯ মে ২০১৯, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে কৃষককে বাচাতে হবে- ন্যাপ

সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে কৃষককে বাচাতে হবে-বাংলাদেশ ন্যাপ
[ভালুকা ডট কম : ১৩ মে]
"রবিবার টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলায় ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন কৃষক" ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও আহার জোগানোর জন্য দিন-রাত কঠিন পরিশ্রম করতে হয় কৃষকদের। তাই অনতিবিলম্বে কৃষি ক্ষেত্রে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে কৃষককে বাচাতে হবে। ক্রমাগত কৃষি উপকরণ মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি কাজে মুনাফা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচটুকুও উঠে আসছে না কৃষকদের।

তারা বলেন, ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষিখাতই মূল ভূমিকা রেখেছে। এরপরও কৃষিখাতের অগ্রগতি অন্যান্য খাতের তুলনায় সন্তোষজনক নয়। কৃষির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ফসলের ভরা মৌসুমে কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। আমন, বোরো, ইরি ধান কাটার সময় কৃষক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ধান বেচতে সরকারের নাগাল পাচ্ছেন না কৃষক। সবসময়ের মতোই রয়ে গেছে ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য। সরকার নিজেকে কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে দাবী করলেও প্রকৃত অর্থে তারা তা প্রমান করতে পারছে না। বরং সরকার কৃষকের কৃষকের ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ আদায়ের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৬৭ হাজার মামলা দায়ের করেছে। সরকার ন্যূনতম এই কৃষি ঋণ মওকুফ করার পরিবর্তে লুটেরাদের তারা বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য তৎপরতা গ্রহণ করেছে।

তারা বলেন, প্রায় প্রতি মৌসুমেই ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকের মধ্যে হাহাকার ওঠে। মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কম দামে ফসল কিনে সরকারের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে। ফলে ক্ষেত্রবিশেষে উৎপাদন খরচ তুলতেই কৃষকদের বেগ পেতে হচ্ছে। যার ক্ষোভের বহি:প্রকাশই হচ্ছে ‌‍" ধানের দাম শুধু টাঙ্গাইলেই কম নয়; এ অবস্থা গোটা দেশে। সরকার এদিকে নজর না দিলে আমাদের কৃষি অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়তে মনে হয় খুব সময় নেবে না। কৃষক দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফায়দা লুটছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা।

ন্যাপ চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বলেন, কৃষি খাতে সহায়তা দেয়া যায় সরকারি বাজেটের মাধ্যমে। তাছাড়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ বা সংকোচনের মাধ্যমেও সহায়তা দেয়া হয় অভ্যন্তরীণ কৃষির উৎপাদনকে। কৃষিকে সহায়তা প্রদানের সময় একটি বড় কৌশল হচ্ছে পণ্যের মূল্য সমর্থন। কৃষিপ্রধান উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উল্লিখিত সব সহায়তা ও সমর্থনই কম-বেশি বিদ্যমান। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে প্রশ্ন উঠছে সহায়তা ও সমর্থনের মাত্রা নিয়ে। বাজেট সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের কৃষিতে ব্যয়ের পরিমাণ দিনের পর দিন নিরঙ্কুশ টাকার অঙ্কে ক্রমেই বাড়ছে; কিন্তু হ্রাস পাচ্ছে আপেক্ষিক অর্থে। কৃষিতে প্রণোদনা জোগানোর জন্য প্রদত্ত ভর্তুকির পরিমাণও আপেক্ষিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ছয় বছর আগে মোট বাজেটের ৬ শতাংশেরও বেশি ব্যয় করা হয়েছিল কৃষি ভর্তুকি খাতে। এখন তা নেমে এসেছে ২ শতাংশেরও নিচে।

নেতৃদ্বয় ধান, গম, পাট, ভূট্টা ও সবজিসহ ফসলের লাভজনক দাম, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু, খোদ কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়, আসন্ন বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানো, চাল আমদানি বন্ধ, বিএডিসিকে সচল, পল্লী রেশন-শস্য বিমা চালু, পল্লী বিদ্যুত ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানি, দুর্নীতি বন্ধের জোর দাবি জানান।

এছাড়াও তারা খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণ, পুলিশী হয়রানী, জুলুম, নিপীড়ন, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও গ্রেফতার বাণিজ্য বন্ধ, কৃষকের মাঝে সাটিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিসহ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানান। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

রাজনীতি বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই