তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

বেতন-বোনাসের দাবিতে সাভারে বিক্ষোভ

বেতন-বোনাসের দাবিতে সাভারে বিক্ষোভ
[ভালুকা ডট কম : ১১ আগস্ট]
দুই মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় মাহদী নীট ডিজাইন লিমিটেড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় শনিবার (১০ আগস্ট) রাত থেকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্রমিকরা। শনিবার বিকেলে বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও কারখানার মালিকপক্ষ শ্রমিদের বেতন পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা সন্ধ্যা থেকেই কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

শ্রমিকরা জানায়, জুন ও জুলাইসহ ঈদ বোনাস না দিয়ে কারখানার পরিচালক মুরাদ হোসেন শান্ত পালিয়ে গেছে। বেতন ও বোনাসের জন্য শ্রমিকরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাটির সামনে অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। এর আগে বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে সড়কে নেমে পুলিশের টিয়ার গাসের শেলসহ ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া মোকাবেলা করতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানার শ্রমিকদের। আর ঢাকায় একটি কারখানার শ্রমিকরা পরপর দুই দিন সড়কে অবস্থান নিয়ে আদায় করেছেন বেতন-বোনাস।

এ ধরনের কিছু বিচ্ছিন্ন শ্রম অসন্তোষ হলেও শেষ পর্যন্ত তা নিরসন করে প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাক শিল্প খাতের মালিকরা। গতকাল রাত ৮টা ৪০ মিনিটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিল্প পুলিশের আওতাভুক্ত ছয়টি অঞ্চলে অবস্থিত ৩ হাজার ৮৪৬টি বস্ত্র ও পোশাক কারখানার প্রায় শতভাগেই বেতন-বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। বেতন পরিশোধ হয়েছে ৯৮ দশমিক ৭২ শতাংশ কারখানায় এবং বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৯৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ কারখানায়।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও শিল্প পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী ২৭৮টি কারখানা বেতন-বোনাস নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ৪৭টি কারখানায় বিজিএমইএর মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস প্রদান সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা হয়েছে বলে গতকাল বিজিএমইএর বিজ্ঞপ্তিতে দাবী করা হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ রেডিও তেহরানকে জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বেনাস নিয়ে ঝামেলা কম হয়েছে; কিন্তু মালিকরা যেমনটি দাবী করেছেন তাতেই দেখা যাচ্ছে অন্তত চল্লিশ ভাগ কারখায় অসন্তোষ রয়েছে। ঈদের দু’দিন আগে বেতন-ভাতা পরিশোধের কথা থাকলেও আজ সকালেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ করতে হয়েছে কয়েকটি কারখানায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, সম্প্রতি শিল্পে ব্যয় বৃদ্ধির চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে আমাদের। আর্থিকভাবে টেকসই হওয়ার এ চাপ ও জটিলতা ক্ষুদ্র-মাঝারি-বড় সব ধরনের কারখানাতেই ছিল। বিজিএমইএর সদস্যরা এগুলো মোকাবেলা করার পাশাপাশি বেতন-বোনাস পরিশোধ করে শ্রমিকদের উৎসবমুখরভাবেই বাড়ি পাঠাতে পেরেছেন। আমাদের জানা মতে, কোনো কারখানাই বাকি নেই। আশা করছি, আগামী বছরগুলোতে শ্রমিকের বেতন-বোনাস পরিশোধ গণমাধ্যমের জন্য কোনো ঘটনার ক্ষেত্র হবে না। গতানুগতিকভাবেই শ্রমিকরা ঈদের আগে বেতন-ভাতা নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বাড়ি ফিরবেন। দিন শেষে এ শ্রমিকরাই শিল্প টেকসই করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

এদিকে, ঈদে বাড়ি ফেরা পোশাককর্মীদের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের (বিআরটিসি) ১৭১টি বাস বরাদ্ধ দিয়েছে সরকার। নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পোশাককর্মীরা যেন বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমই-এর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোশাককর্মীরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন সে জন্য গত ২০ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন বিজিএমইএর সভাপতি। একইদিন বিআরটিসি চেয়ারম্যানের কাছেও আবেদন করেন তিনি।

বিজিএমইএ-এর সভাপতির আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন,দেশের পোশাক শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে ৪৫ লাখ এবং পরোক্ষভাবে দুই কোটি শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। তাদের অবদানে রফতানি বাণিজ্যের ৮৩ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আসে দেশের অর্থনীতিতে। এই জনশক্তির বেশির ভাগই মুসলিম। ফলে ঈদের ছুটি শুরু হলে ঢাকা ও আশপাশের ৪৫ লাখ শ্রমিকরা বাস ট্রেন ও লঞ্চের মাধ্যমে বাড়ি যেতে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯২৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই